img

দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগে সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার মো. জহুরুল হককে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সস্ত্রীক হাজির হন সংস্থাটির সাবেক এ কমিশনার। এসময় আলাদা কক্ষে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের সাবেক কমিশনার জহুরুল হকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে ব্যবহার করে তিনি অর্থ পাচার করেছেন মর্মে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২১ সালে দুদকের কমিশনার পদে নিয়োগ পাওয়ার পর দুদকের এই সদ্য সাবেক কমিশনার ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে তার নিজ নামে একটি ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। এর আগেও তিনি রাজউক থেকে নিজের ও স্ত্রী মাছুদা বেগমের নামে পৃথক দুটি ৫ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।

২০২২ সালের ২৩ আগস্ট মো. জহুরুল হক তার নিজের নামে বরাদ্দ দেওয়া ৫ কাঠার প্লটের পরিবর্তে ১০ কাঠা আয়তনের প্লট দিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের ১০ নম্বর সেক্টরের ৪০২ নম্বর রোডের ৫ কাঠা প্লটটিকে বাড়িয়ে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেয়। আগের প্লটের সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার নামে প্লট রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস ১৯৬৯ বিধিমালা অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রীর নামে আলাদা আলাদা প্লট বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম নেই। এছাড়া বড় দুটি টেলিকম অপারেটর থেকে শত শত কোটি টাকা ঘুষ নেয়া, অর্জিত অর্থ পাচার করে বিভিন্ন দেশে একাধিক বাড়ি নির্মাণ করা তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও এসব অভিযোগ রয়েছে।

সবশেষ গেল ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে দুদকের সাবেক কমিশনার জহুরুল হকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে সংস্থাটি।

এই বিভাগের আরও খবর